#  হবিগঞ্জ জেলায় শ্রেষ্ট ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন সাংবাদিক খোকন #  সাংবাদিকরা দেশ ও জাতির অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করতে হবে-অতিঃডিআইজি জয়দেব কুমার ভদ্র #  গণতন্ত্রের ছদ্মবেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ #  অবৈধ টমটম ॥ তীব্র যানজটে হবিগঞ্জ শহরবাসীর নাভিশ্বাস #  লাখাইয়ে বিদ্যুতায়নের উদ্বোধন করলেন এমপি আবু জাহির #  মাধবপুর পৌর যুবলীগের ৯নং ওয়ার্ডের সম্মেলন অনুষ্ঠিত #  ভাষা সৈনিক আফরোজ বখতের আইন পেশায় ৫০ বছর #  লাখাই উপজেলা বিএনপির দোয়া মাহফিল #  চুনারুঘাটে বিভিন্ন মেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক ২ আসামী গ্রেফতার #  নবীগঞ্জে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে বন্ধ

হবিগঞ্জে শুটকি উৎপাদন করে ৩ হাজার পরিবারে স্বচ্ছলতা ॥ রপ্তানী হচ্ছে বিদেশে

002

আশরাফুল ইসলাম কহিনুর ॥ শুটকি মাছ অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার। প্রায় প্রতিদিনের খাবার তালিকায় একটি শুটকির আইটেম না থাকলে কেমন জানি খাবারই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। পরপর কয়েকদিন খাবার তালিকায় এই আইটেমটি না থাকলে অনেকের রুচি মন্দা হয়। তাই রুচির পরিবর্তনের জন্য হলেও চাই শুটকির তরকারী। পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক না কেন হবিগঞ্জবাসী তথা বাঙ্গালীদের এই শুটকি চাই-ই। দেশীয় মাছের এই শুটকির ব্যাপক চাহিদায় হবিগঞ্জের হাওড় অঞ্চলে গড়ে উঠেছে শুটকি শিল্প। শুটকি উৎপাদন করে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই, মাধবপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায ৩ হাজার পরিবার স্বচ্ছলতা পেয়েছে। আর শুটকি বিপণনের সাথে জড়িত থেকে আরও কয়েক হাজার মানুষ জীবিকা অর্জন করছে। এই শুটকি মাছ দেশের সীমানা ছেড়ে এখন বৃটেন, আমেরিকা, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানী হচ্ছে নিয়মিত। অনেকেই ডাক বিভাগের মাধ্যমে প্রতিদিনই শত শত কেজি শুটকি বিদেশে পাঠাচ্ছেন। দেশ থেকে প্রবাসে যাওয়ার সময় সকলের লাগেজেই থাকে এই শুটকি মাছ।
জেলেদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা শেষে হেমন্তের শুরুতেই যখন পানি কমতে থাকে তখন হাওর ও বিলের মাছ আহরণ করে শুটকি তৈরী করা হয়। হবিগঞ্জের শুটকিতে কোন কেমিক্যাল মেশানো হয় না। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে হাওরে মাচান তৈরী করে এই শুটকি উৎপাদন করা হয়। এই শিল্পের সাথে জড়ি অধিকাংশই হলেন মহিলা। পুরুষ লোকজন মাছ আহরণের কাজে জড়িত থাকলেও প্রক্রিয়াকরণের সাথে জড়িত থাকেন মহিলারা। ফরমালিনমুক্ত এখানকার শুটকি স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ ছাড়াও ইউরোপ, আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে।
বানিয়াচং উপজেলার বাঘহাতা, গাজীপুর, শান্তিপূর, ভাটিপাড়া, সুনারু, নাগুরা ও আজমিরিগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাও, নোয়াগড়, বিরাট, কোদালিয়া, বদলপুর রয়েছে শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণের রয়েছে অসংখ্য ডাঙ্গা। ডাঙ্গায় দেশীয় প্রজাতির পুঁটি, চিংড়ি, কাকিয়া, শইল, গজার, টাকি, বাইম, টেংরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির শুটকি তৈরী করা হয়। বর্তমানে জেলে পল্লীগুলোতে এই শুঁটকি শুকানোর ধুম পড়েছে। শুটকিতে ইউরিয়া সার, লবণ ও বিষাক্ত পাউডার দিয়ে পক্রিয়াজাত করার অভিযোগ থাকলেও হবিগঞ্জের কোথাও শুঁটকি ঘেরগুলোতে বিষাক্ত কোন কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। ফলে এখানকার শুঁটকি সুস্বাদু এবং আলাদা কদর রয়েছে।
বানিয়াচংয়ের জেলেরা কোনো কিছু মিশ্রণ ছাড়া প্রখর রৌদ্রের তাপে শুঁটকিগুলো শুকান বলেই এখানকার শুঁটকি খুবই সুস্বাদু। তাই জেলে পল্লীগুলোতে শুকানো শত শত মণ শুঁটকি ক্রয় করতে আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে গুদাম মালিকরা দলে দলে হাজির হচ্ছেন এবং অনেকেই জেলেদের অগ্রিম টাকা দিয়ে যাচ্ছেন।
বানিয়াচংয়ের ভাটিপাড়ার জেলে নিখিল দাস বলেন, আমাদের এখানে উৎপাদিত শুঁটকির মধ্যে লইট্যা, রূপচাঁদা, পুঁটি, চিংড়ি ও বাইম মাছের শুঁটকি অন্যতম। এই এলাকার উন্নতমানের শুঁটকি জেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের অন্যান্য জেলায়ও সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে তা এখন রফতানি হচ্ছেথ দুবাই, সৌদি আরব, কাতার, মালয়েশিয়া, ওমান, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। এসব শুঁটকি রফতানি করে কোটি কোটি টাকা আয় করছেন বানিয়াচংয়ের ঘের মালিকসহ বড় বড় গুদাম মালিকরা।
স্থানীয় জেলেরা জানান, বানিয়াচংয়ের জেলেরা শুঁটকি উৎপাদন করতে সরকারি- বেসরকারি কোনো সাহায্য-সহায়তা পান না। নিজ উদ্যোগে তারা কাঁচা মাছ শুকিয়ে শুঁটকি উৎপাদন করেন। শুঁটকি উৎপাদনকারী জেলেদের কোনো পৃষ্ঠপোষকতা বা ব্যাংক ঋণ সুবিধা না থাকায় তারা ধরনা দেন এলাকার প্রভাবশালী বা শহরের গুদাম মালিকদের কাছে। গুদাম মালিকদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নেয়ার কারণে অনেক সময় স্বল্প মূল্যে শুঁটকিগুলো গুদাম মালিকদের হাতে তুলে দিতে হয়। বানিয়াচংয়ের ৩ থেকে ৪ হাজার জেলের অন্যতম আয়ের উৎস এই শুঁটকি ঘের। শুকনো মৌসুমে শুঁটকি শুকিয়ে তা মালিকদের কাছে বিক্রি করেই চলে তাদের জীবন-জীবিকা।
মামু ভাগিনা শুঁটকি আড়তের মালিক ও রফতানিকারক হেকিম উল্লাহ বলেন, প্রতি বছর বানিয়াচং থেকে মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রফতানি হয় কোটি কোটি টাকার শুঁটকি। নদী ও হাওর থেকে আহরণ করা মাছ আধুনিক পদ্ধতিতে শুকানোর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় জেলেদের বাড়ির সামনে রৌদ্রে শুঁটকি শুকাতে হয়। তাছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামীণ সড়কপথগুলো উন্নত না হওয়ায় উৎপাদিত শুঁটকি দূর-দূরান্তে সরবরাহ করার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হলে এখানকার শুঁটকি কম খরচে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো যেত। শুঁটকি শুকানো কাজে নিয়োজিত জেলেরা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরও ব্যাপক হারে শুঁটকি উৎপাদন করার মাধ্যমে তা বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। তার জন্য সরকারের সহযোগীতা কামনা করেছেন জেলে সম্প্রদায়ের লোকজন।

shares
en_USEnglish
en_USEnglish